যারা ইনডোর ট্যানিংয়ে নতুন, তাদের অনেকেই জানতে আগ্রহী হন যে ট্যানিং বেড এক সপ্তাহ ব্যবহার করার পর কী ধরনের ফলাফল আশা করা যায়। মাত্র সাত দিনে আগের ও পরের পরিবর্তনগুলো বুঝতে পারলে তা আপনাকে বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা তৈরি করতে এবং একটি সঠিক ট্যানিংয়ের সময়সূচী পরিকল্পনা করতে সাহায্য করবে।
এক সপ্তাহ ট্যানিং করার পর বেশিরভাগ মানুষই তাদের ত্বকের রঙে একটি লক্ষণীয় পার্থক্য দেখতে শুরু করেন, কিন্তু এর ফলাফল ত্বকের ধরন, কত ঘন ঘন ট্যানিং করা হয়, সেশনের সময় এবং ব্যবহৃত ট্যানিং বেডের ধরনের মতো বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে। নতুনদের ক্ষেত্রে, প্রথম সপ্তাহটি সাধারণত খুব গাঢ় রঙ অর্জনের পরিবর্তে ত্বকে একটি ভিত্তিগত ট্যান তৈরির উপর বেশি মনোযোগ দেয়।
ট্যানিং বেড সেশন শুরু করার আগে, ত্বক সাধারণত তার স্বাভাবিক রঙে থাকে এবং ইউভি রশ্মির সংস্পর্শে বেশি সংবেদনশীল হতে পারে। এই কারণেই বেশিরভাগ ট্যানিং বিশেষজ্ঞরা ছোট সেশন দিয়ে শুরু করার পরামর্শ দেন, যা সাধারণত ৫ থেকে ৭ মিনিটের হয়ে থাকে, এবং সপ্তাহজুড়ে ধীরে ধীরে সেশনের সময় বাড়াতে বলেন। প্রথম সপ্তাহের একটি সাধারণ ট্যানিং শিডিউলে কয়েক দিনের ব্যবধানে ২ থেকে ৩টি সেশন অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যাতে ত্বকে ধীরে ধীরে মেলানিন তৈরি হতে পারে।
প্রথম কয়েকটি সেশনের পর ত্বক কিছুটা গাঢ়, উষ্ণ বর্ণের বা আরও সোনালী দেখাতে পারে। মেলানিন উৎপাদনে সময় লাগে বলে অনেকে হয়তো সঙ্গে সঙ্গে বড় কোনো পরিবর্তন দেখতে পান না। ট্যানিং সেশন শেষ হওয়ার পরেও ট্যানিং প্রক্রিয়া চলতে থাকে, যে কারণে প্রথম সেশনের কয়েক দিন পর ফলাফল আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
প্রথম সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগেই অনেকে ত্বকে একটি হালকা বেস ট্যান লক্ষ্য করেন। এই বেস ট্যানটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি পরবর্তী ট্যানিং সেশনের জন্য ত্বককে প্রস্তুত করতে সাহায্য করে এবং পরের সেশনগুলোতে ত্বক পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমায়। তবে, এটা বোঝা জরুরি যে একটি গভীর ও গাঢ় ট্যান তৈরি হতে সাধারণত কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে, মাত্র এক সপ্তাহে নয়।
ফলাফল আগে ও পরে কেমন হবে, তাতে ত্বকের ধরন একটি বড় ভূমিকা পালন করে। ফর্সা ত্বকের মানুষেরা এক সপ্তাহ পর রঙের সামান্য পরিবর্তন দেখতে পারেন, অন্যদিকে মাঝারি বর্ণের মানুষেরা আরও লক্ষণীয় ফলাফল দেখতে পারেন। গাঢ় বর্ণের মানুষেরা তাদের স্বাভাবিক ত্বকের রঙের সূক্ষ্ম কিন্তু সুষম গভীরতা লক্ষ্য করতে পারেন।
ট্যানিং করার এক সপ্তাহ পর আরও কিছু পরিবর্তন আপনি লক্ষ্য করতে পারেন। আপনার ত্বক স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা শুষ্ক মনে হতে পারে, কারণ ইউভি রশ্মির সংস্পর্শে ত্বকের আর্দ্রতা কমে যায়। একারণেই ট্যানিং প্রক্রিয়া চলাকালীন ত্বককে আর্দ্র রাখা খুব জরুরি। পর্যাপ্ত আর্দ্রতাযুক্ত ত্বকে ট্যান আরও সমানভাবে হয় এবং এর রঙও বেশিদিন স্থায়ী হয়।
এক সপ্তাহের মধ্যে আগের ও পরের ফলাফল আরও ভালো করার জন্য ত্বকের সঠিক প্রস্তুতি জরুরি। প্রথম ট্যানিং সেশনের আগে এক্সফোলিয়েট করলে ত্বকের মৃত কোষ দূর হয়, ফলে ইউভি রশ্মি আরও সমানভাবে ত্বকে প্রবেশ করতে পারে। ইনডোর ট্যানিং লোশন ব্যবহার করলেও ফলাফল আরও ভালো হয় এবং ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করা যায়।
প্রথম সপ্তাহে প্রতিদিন ট্যান না করাও গুরুত্বপূর্ণ। আপনার ত্বকের সেরে উঠতে এবং মেলানিন তৈরি করতে সময় প্রয়োজন। খুব ঘন ঘন ট্যান করলে ত্বক লালচে বা জ্বালাপোড়া করতে পারে, যা ট্যানিং প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয় এবং ফলাফল অসমান করে তোলে।
সংক্ষেপে, ট্যানিং বেড ব্যবহারের এক সপ্তাহ পর সাধারণত ত্বকে একটি হালকা বেস ট্যান, উষ্ণতর ত্বকের আভা এবং আরও মসৃণ বর্ণ দেখা যায়। যদিও এই পরিবর্তন খুব বেশি চোখে পড়ার মতো নাও হতে পারে, তবে একটি দীর্ঘস্থায়ী ট্যান তৈরির জন্য প্রথম সপ্তাহটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ধারাবাহিকতা, সঠিক সময় এবং ত্বকের যত্নই হলো মূল বিষয়, যা নির্ধারণ করে আপনার আগের ও পরের ফলাফল কতটা ভালো হবে।
